মোহাম্মদ আহসান হাবিব; স্টাফ রিপোর্টার ০৬ মার্চ ২০২৬ ১২:৩৯ এ.এম
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দাম দিচ্ছে সাধারণ মানুষ—অস্ত্র ব্যবসায়ীদের লাভ, বিশ্ববাসীর দুর্ভোগ
মধ্যপ্রাচ্য বহু দশক ধরেই বৈশ্বিক রাজনীতির এক অস্থির ভূখণ্ড। কখনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, কখনো ধর্মীয় বিভাজন, আবার কখনো ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের সংঘাতে অঞ্চলটি বারবার যুদ্ধ ও উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতও তার ব্যতিক্রম নয়। এই সংঘাতের ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা দেশগুলোর ওপর নয়,
বরং বিশ্বের সাধারণ মানুষের জীবনেও।
একদিকে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী, অন্যদিকে অস্ত্র ব্যবসায়ীদের পকেটে ঢুকছে কোটি কোটি ডলার।
যুদ্ধ শুরু হলেই প্রথম যে খাতটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে তা হলো জ্বালানি বাজার। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোর একটি। ফলে এই অঞ্চলে সামান্য উত্তেজনা দেখা দিলেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে। তেলের মূল্য বৃদ্ধি মানে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেষ পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়া।
অর্থাৎ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে হাজার মাইল দূরে থাকা সাধারণ মানুষও এর অর্থনৈতিক চাপ বহন করতে বাধ্য হয়।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য এই পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতিতে।
পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পায়, শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্যও বেড়ে যায়। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ে, যা সমাজে নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে।
অন্যদিকে যুদ্ধের আরেকটি বড় বাস্তবতা হলো অস্ত্র ব্যবসা। যুদ্ধ যত দীর্ঘস্থায়ী হয়, অস্ত্র শিল্পের লাভ তত বাড়ে। বিশ্বব্যাপী বড় বড় অস্ত্র নির্মাতা কোম্পানিগুলো যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ব্যবসার সুযোগ হিসেবে দেখে। নতুন নতুন অস্ত্র সরবরাহ, প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং সামরিক সহযোগিতার নামে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের লেনদেন হয়। ফলে যুদ্ধের ময়দানে রক্ত ঝরলেও দূরে বসে থাকা অস্ত্র ব্যবসায়ীরা লাভের অঙ্ক গুনতে থাকে।
এখানেই দেখা যায় এক নির্মম বাস্তবতা—যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ, আর সবচেয়ে বড় লাভবান অস্ত্র ব্যবসায়ী ও শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো। যুদ্ধের ফলে ঘরবাড়ি হারায় লাখো মানুষ, তৈরি হয় শরণার্থী সংকট, ধ্বংস হয় অবকাঠামো, থমকে যায় অর্থনীতি। কিন্তু এই মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেও কিছু গোষ্ঠী অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়ে ওঠে।
বিশ্ব রাজনীতির এই বাস্তবতায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কূটনৈতিক উদ্যোগ ও শান্তিপূর্ণ সমাধান। সংঘাত যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, ততই বাড়বে অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং মানবিক সংকট। তাই যুদ্ধ নয়, আলোচনাই হতে পারে একমাত্র কার্যকর পথ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে যাতে সংঘাতের আগুন দ্রুত নিভে যায়।
সবশেষে বলা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুধু একটি অঞ্চলের সংকট নয়; এটি আজ বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মানবিক পরিস্থিতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। যখন অস্ত্র ব্যবসায়ীরা মুনাফার হিসাব কষছে, তখন সাধারণ মানুষ লড়াই করছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, জ্বালানি সংকট এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সঙ্গে। তাই মানবতার স্বার্থেই বিশ্বকে যুদ্ধের পথ থেকে সরে এসে শান্তির পথে এগোতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দাম দিচ্ছে সাধারণ মানুষ—অস্ত্র ব্যবসায়ীদের লাভ, বিশ্ববাসীর দুর্ভোগ
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে ফ্লাইট বাতিল: যাত্রীদের রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা করবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়
মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী, বিশেষ নির্দেশনা
খামেনির মৃত্যুর পর ইরানে অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ গঠন
খামেনির মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা
ইরান ইস্যুতে উত্তেজনা ছড়িয়ে, বিভিন্ন দেশে বিস্ফোরণের ঘটনা
খামেনি-পরবর্তী ইরান: নেতৃত্বে কে হবেন উত্তরসূরি?
যে পথ পেরিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি
কাতারের রাজধানী দোহায় বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল
কার্যালয়ে বসে কাজ করার সময় শহীদ হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি: ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি
আঞ্চলিক পরিস্থিতির উন্নয়ন ও উত্তেজনা কমাতে সৌদি আরব-পাকিস্তানের ফোন-আলাপ
"বড় দিন–২০২৫” উপলক্ষে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে!
গিনির প্রেসিডেন্ট গ্রেফতার, ক্ষমতা দখল করল গিনির সেনাবাহিনী
২০২৫ সালের রসায়নের নোবেল পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা করেছে
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সাত দফা প্রস্তাব প্রধান উপদেষ্টার
গাজাগামী বহরের সুরক্ষায় ভূমধ্যসাগরে যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে ইতালি-স্পেন!