সোমবার ২০ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
সাহিত্য

‘যদি মন কাঁদে, তুমি চলে এসো...’: নুহাশ পল্লীসহ দেশজুড়ে হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম প্রয়াণ দিবস পালন

বিজয় বারিক, স্টাফ রিপোর্টার ১৯ জুলাই ২০২৬ ১১:০৫ পি.এম

‘যদি মন কাঁদে, তুমি চলে এসো...’: নুহাশ পল্লীসহ দেশজুড়ে হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম প্রয়াণ দিবস পালন ‘যদি মন কাঁদে, তুমি চলে এসো...’: নুহাশ পল্লীসহ দেশজুড়ে হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম প্রয়াণ দিবস পালন

বাংলা সাহিত্যের জাদুকর, আধুনিক বাংলা উপন্যাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রূপকার, প্রখ্যাত নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম প্রয়াণ দিবস আজ। ২০১২ সালের আজকের এই দিনে (১৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বেলভিউ হাসপাতালে ক্যান্সারের সাথে দীর্ঘ লড়াই শেষে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কালজয়ী সাহিত্যিক। মৃত্যুর এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর সৃষ্টি আজও কোটি পাঠক ও দর্শকের হৃদয়ে সমানভাবে স্পন্দিত হচ্ছে।

 

প্রিয় লেখকের স্মৃতিকে স্মরণে রেখে আজ সকাল থেকেই গাজীপুরের পিরুজালীতে অবস্থিত তাঁর প্রিয় সৃষ্টি ‘নুহাশ পল্লী’তে ভিড় জমিয়েছেন দেশ-বিদেশের হাজারো ভক্ত, পাঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। নুহাশ পল্লীতে লেখকের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মোনাজাত ও কোরআনখানির আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ভক্তদের চোখে প্রিয় লেখকের স্মরণে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

 

নুহাশ পল্লীর পাশাপাশি রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডিতে লেখকের বাসভবন ‘দখিন হাওয়া’ এবং তাঁর জন্মস্থান নেত্রকোনাসহ দেশজুড়ে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করছে। নেত্রকোনায় ‘হিমু পাঠক আড্ডা’র উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ ‘স্মরণকথন’ অনুষ্ঠান, যেখানে বক্তারা হুমায়ূন আহমেদের বর্ণাঢ্য জীবন ও বাংলা সাহিত্যে তাঁর যুগান্তকারী অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

 

টেলিভিশন চ্যানেল ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে আজ দিনভর প্রচারিত হচ্ছে তাঁর পরিচালিত কালজয়ী নাটক, চলচ্চিত্র এবং তাঁর লেখা চিরসবুজ গানগুলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতেও সকাল থেকেই ভক্তরা প্রিয় লেখকের অমর চরিত্র যেমন— হিমু, রূপা, মিসির আলি ও শুভ্রর কথা মনে করে আবেগঘন বার্তা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি শেয়ার করছেন।

 

বাংলা কথাসাহিত্যে সংলাপের সহজ সরল বুনন এবং মধ্যবিত্ত বাঙালি জীবনের আবেগকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার যে জাদুকরী ক্ষমতা হুমায়ূন আহমেদের ছিল, তা আজও অতুলনীয়। তিনি শারীরিকভাবে চলে গেলেও, বইয়ের পাতায় আর পাঠকদের ভালোবাসায় তিনি বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল।


এই সম্পর্কিত আরও খবর

আরও পড়ুন